ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞ মহলে তর্ক-বিতর্ক চলছে। এমনই এক সময়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে রিমোট ও হাইব্রিড ওয়ার্ক। খবর ইউরো নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অফিসে না এসে কাজ করার সুবিধা কোম্পানিগুলোকে কর্মী ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি গবেষকরা এও উল্লেখ করেছেন, নমনীয় কাজের ব্যবস্থা এমন কিছু মানুষকে পুনরায় শ্রমবাজারে ফিরিয়ে আনে, যারা এ ধরনের শর্ত ছাড়া কাজ করতে পারতেন না।
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনটির শিরোনাম, ‘ইজ ওয়ার্কিং ফ্রম হোম ওয়ার্কিং?’ এতে বিশেষজ্ঞের একটি দল বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন, উৎপাদনশীলতা, ব্যবসা ও কর্মস্থলের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেছেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশের কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশটিতে বেকারত্বের হার ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
প্রতিবেদনের ভাষ্য মতে , দেশটিতে কর্মসংস্থান ধীরে ধীরে কমছে। তবে নতুন বাবা-মা, কেয়ারগিভিং কর্মী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নমনীয় কাজের সুযোগ পেলে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। সমীক্ষায় অংশ নেয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘১৪ বছর ধরে যে কাজ করতাম, তা আমি ছেড়ে দিয়েছি। কারণ অন্যদের মাধ্যমে বাচ্চা লালন-পালন খুব বেশি খরুচে।’
ইতালির এক গবেষণাকে উদ্ধৃত করে এতে আরো বলা হয়েছে, দেশটিতে নমনীয় কাজের ব্যবস্থা নবজাতকের বাবা-মা ও কেয়ারগিভারদের জন্য নতুন সুযোগ দিয়েছে। ফলে তারা ঘরোয়া ও পেশাগত দায়িত্ব আরো কার্যকরভাবে সামলাতে পারছেন।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদসম্পন্নদের পাওয়া সম্ভাব্য সুবিধা সরকারের প্রতিবন্ধী কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তবে এও স্বীকার করা হয়েছে, এখনো অনেক পদ রয়েছে সেগুলোয় অফিসে এসে কাজ সম্পন্ন করতে হয়। বিভিন্ন খাত ও অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য লজিস্টিক পার্থক্য রয়েছে।
পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ও লন্ডনে থাকা মানুষের নমনীয়ভাবে কাজ করার সুযোগ বেশি। অফিসে কাজ করা মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ হাইব্রিড পদ্ধতি অনুসরণ করে।
আরো বলা হচ্ছে, নমনীয় কাজ আঞ্চলিক বৈষম্য মোকাবেলায়ও সহায়তা করতে পারে। কারণ এটি কর্মী বাবদ খরচ সমানভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে। মন্ত্রীদের এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধানের আহ্বানও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইউরোপের দেশগুলায় রিমোট ওয়ার্কের হার ভিন্ন। গ্লোবাল সার্ভে অব ওয়ার্কিং অ্যারেঞ্জমেন্টস (জি-এসডব্লিউএ) অনুযায়ী গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মীদের এ ধরনের সুবিধা দানে অঞ্চলটির ১৮টি দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য শীর্ষে।
বিশ্বব্যাপী কর্মীরা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ১ দশমিক ২ দিন বাড়ি থেকে কাজ করেন। তবে দেশে দেশে ব্যবধান অনেক বড়। দক্ষিণ কোরিয়ায় মাত্র দশমিক ৫ দিন ও কানাডায় ১ দশমিক ৯ দিন। যুক্তরাজ্যে কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে ১ দশমিক ৮ দিন বাড়ি থেকে কাজ করেন, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ এবং ৪০টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ সমীক্ষায় শুধু বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ওএনএসের তথ্য বলছে, কভিড-মহামারীর পর কাজের ধারা পরিবর্তন হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন পর্যন্ত সংগৃহীত সর্বশেষ তথ্য দেখাচ্ছে, যুক্তরাজ্যে ৩৯ শতাংশ কর্মী অল্প সময় বাড়ি থেকে কাজ করেন। পুরোপুরি হাইব্রিড পদ্ধতি অনুসরণ করে ২৬ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ রিমোট ওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ শুধু ৪৩ শতাংশ কর্মী কাজের জন্য অফিসে যাতায়াত করছেন।